মোহাম্মাদ মানিক হোসেন:

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্প বিএডিসির জয়পুর সেচ প্রকল্পে ভুয়া কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। আর এই ভুয়া কমিটি গঠনে নের্তৃত্ব দিয়েছেন জয়পুর ফাতেহ আলী ফাজিল মাদ্রাসার অফিস পিয়ন রবিউল ইসলাম।

এ বিষয়ে সেচ প্রকল্প এলাকার স্থানীয় কৃষকরা এই ভুয়া কমিটি বাতিলের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন।
জানাগেছে, উপজেলা ভিয়েল ইউনিয়নের কাঁকড়া নদীতে জয়পুর নদীরপার এলাকায় অগভীর নলকুপ সেচ নিয়ে গত ২০১৫ সালে দিনাজপুর নোটারী পাবলিক ৩৩৮ নং অংশীদারি চুক্তিপত্র দাখিলের মাধ্যমে ৮ জন বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
আর এই কমিটির মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অগভীর নলকুপ সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিএডিসি কর্তৃক ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আবেদন করলে পূর্বের গঠনকৃত কৃষকদের কমিটি জমাদানে বিএডিসির সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু ওই সময়ে প্রকল্পের ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন জয়পুর ফাতেহ আলী ফাজিল মাদ্রাসার অফিস পিয়ন মোঃ রবিউল ইসলাম।

প্রকৃত কৃষকদের নামের প্রস্তাব দিয়ে কমিটির অনুমোদন নেয়ার কথা থাকলেও রবিউল ইসলাম চক্রান্ত করে সুকৌশলে কমিটি থেকে কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান,ফেরদৌস আহমেদ, জুয়েল রানা, হাসান আলী, মেহেরাফ আলী ও জহির উদ্দিনকে বাদ দেয়। পরে নিজের দুলাভাই আছির উদ্দিন, তার ছেলে মেহেরাফ হোসেন, ভাগ্নে জামাই হায়দার আলী ও আপন ভাই শফিকুল ইসলামকে নিয়ে একটি পারিবারিক ভুয়া কমিটি গঠন করে। এতে ওই এলাকার বিএডিসির সেচ প্রকল্পেরর কমিটি থেকে প্রকৃত কৃষকরা বাদ পরে। এতে এই ইরি বোরো মৌসুমে ওই এলাকায় বিএডিসির সেচ প্রকল্প নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় সংঘর্ষের আংশঙ্খা রয়েছে। এতে খরা মৌসুমে পানির অভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে ৬০ একর ইরি বোরো ধানের আবাদি জমি।

কমিটির সাবেক সদস্য ফেরদৌস আহমেদ জানান, রবিউল ইসলাম আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে। পারিবারিক ভুয়া কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন না করলে বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার কথা বলার চেষ্টা করলে থাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী ছমির কুমার বিশ্বাস এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, জয়পুর সেচ প্রকল্পের কমিটি সঠিক ভাবে গঠন করা হয়েছিলো। তবে ভুয়া সদস্য দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে মিমাংসার প্রয়োজন।
চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা জানান, অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।