মোহাস্মদ মানিক হোসেনঃ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীরবন্দর দারুল ইসলাম কংগ্রেস মাদ্রাসার সুপার মার্কেটে ডাকের মাধ্যমে ১৯টি দোকান বরাদ্দে জামানতের কোটি টাকা ছাড়ালেও নিশ্চিয়তা নেই এই টাকার। এতে টাকা দেয়ার আগেই দু-চিন্তায় পড়েছে সেখানকার বরাদ্দ দেয়া নির্ধারিত হওয়া দোকান মালিকগণ।

মাদ্রাসার ম্যানিজিং কমিটির হাতে দেয়া এই টাকার পরর্বর্তীতে কে নেবে এর দায়ভার?  কোথায় যাবে এই টাকা?  হিসাব নেই কোন আয়- ব্যায়ের। এতে হতাশায় দোকান মালিকরা। প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন মেয়াদে দোকান বরাদ্ধে চুক্তিনামা দেয়া হলেও পরে এই ফেরত যোগ্য জামানতের টাকার কি হবে তা কোন কিছুই জানাতে পারেনি কেউ। কমিটির পদ পরিবর্তন ও সদস্য পরিবর্তনে নতুন সদস্যরা এই টাকা  ফেরতের  দায়ভার কি কেউ নেবে?  না সব টাকায় চলে যাবে পূর্বে দায়িত্ত্বে থাকা কমিটির কর্তার হাতে।

এছাড়া দিনাজপুর- রংপুর হাইওয়ে রাস্তার উপর অবস্থিত এই মার্কেটের পাশে যে কোন দিন শুরু হতে পারে মহাসড়কের রাস্তা প্রশস্থকরণের কাজ। এতে ভেঙে ফেলতে হতে পারে এই মার্কেটটি। সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক কোথায়  দাঁড়াবে আর জামানতের বিপুল অর্থের নিশ্চতাই বা কে দেবে। এমনি প্রশ্নের উত্তর ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে।

নাম বলতে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকান মালিক জানান, এখানে ১০ থেকে ১৫ ফিটের মধ্যে এক একটি দোকান ৫ বছরের জন্য বরাদ্দ নিতে গেলে  সর্ব্বোচ ১৫ লক্ষ ও সর্বনিম্ন ৫ লক্ষ টাকা জামানত গুণতে হবে। যা জেলা- উপজেলা শহরেও দোকান নিতে এত টাকার প্রয়োজন হয়না। তাছাড়া দোকান বরাদ্ধের ডাকে অংশগ্রহন করতে এখানে গুণতে হয় অগ্রীম ২৫ হাজার টাকা। যা মূলত ম্যানেজিং কমিটির একটি শুভংকরের ফাঁকি।

আরেক দোকান মালিক আরো জানান, আমি সাত  লক্ষ টাকা দিতে চেয়েও একটি দোকান পাইনি। আর কত টাকা হলে এখানে একটি দোকান পাওয়া যাবে আমার জানা নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গায়  দোকান হয়েও এত টাকাই বা কেন লাগবে। তিনি আরো জানান, এখানে যারা ২০ বছরের বেশী সময় ধরে দোকান করছেন তারা আর তাদের স্বল্প টাকায় এখানে দোকান পাচ্ছেনা।  এতে চরম বিপাকে পড়ছে সেই দোকান মালিকগণ।

তাছাড়া রাণীরবন্দর দারুল ইসলাম কংগ্রেস মাদ্রাসার সুপার মার্কেট রাণীরবন্দর বাজারের উপর কোটি কোটি টাকার নিজস্ব সম্পত্তিতে দোকান বরাদ্ধে এমন অর্থ অনিয়মের অভিযোগ অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যাক্তি একই পদে বহাল, ম্যানিজিং কমিটির আয় ব্যায়ের হিসাবের কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে বেপড়য়া হয়ে উঠেছে ম্যানিজিং কমিটির সদস্যরা।

অর্ধশতাধিক বিল্ডিং দোকান ভাড়া ও বরাদ্ধে নানা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। তারা আরো জানায়, মাদ্রাসার উন্নয়নে ভাড়ার টাকা বেশী না নিয়ে শুধু এখানে জামানত (ফেরত যোগ্য) টাকা বেশী নেয়া হয়। এই বিপুল পরিমান জামানতের টাকা কোথায় যায় ? যা আমাদের কারো জানা নেই।

আর এই সুযোগের কারনে নিজেদের আখের গোছাতে প্রভাবশালী স্থানীয় কর্তাব্যক্তিরায় মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। এই মাদ্রাসাটিতে কমিটির হাতে ক্ষমতা থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহারও দেখা গেছে ব্যাপক মাত্রায়।ম্যানিজিং কমিটির হর্তাকর্তাদের যোগসাজাসে এমন অনিয়ম অনেকদিন ধরেই চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া মাদ্রাসার এসব নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা,ক্ষোভ থাকলেও দোকান ঘর ভাড়াটিয়া তথা পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা প্রভাবশালী হবার কারনে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। স্থানীয় প্রায় প্রতিটি দোকানে এসব নিয়ে আলোচনা আছে। সাধারন মানুষের প্রশ্ন- মাদ্রাসার উন্নয়নে কাজ করতে আসা ম্যানেজিং কমিটির লোকেরাই যদি এমন সুযোগ নেয়, প্রতিষ্ঠানের মঙ্গল করবে কে?