বরগুনা সদর, তালতলী ও আমতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আবারও মনোনয়ন দেয়া হলে গন পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

চারবারের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার, নেতাকর্মীদের অবমুল্যায়ন, ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট এবং তার পুত্র সুনাম দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে গত সেপ্টেম্বর মাসে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এমপি শম্ভুকে বরগুনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে জেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহ।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, ২০০১ সালের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী গোলাম সরোয়ার ফোরকান, জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল আহসান মহারাজ, কেন্দ্রীয় নেতা এস এম মশিউর রহমান শিহাব সহ জেলা ও তিন উপজেলার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ সকল নেতা কর্মী শম্ভুর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার প্রথমে ঢাকায় ডেকে মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় দলীয় হাইকমান্ড।

এরপর তালতলীতে প্রধানমন্ত্রীকে এনে জনসভা করেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি না হওয়ায় ৫২ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে। ৫২ জনের মধ্যে এমপি শম্ভুর সহকারী, তার বাসার কাজের লোক, ‘ল’ চেম্বারের মহুরী সহ তার অনুসারী ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা রয়েছেন।

এদিকে গতকাল আবারও ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন খবরে ফুঁসে উঠেছে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ খ্যাত বরগুনার সাধারণ মানুষ। যেকোন কিছুর বিনিময়ে শম্ভুকে প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছেন আমতলী ও তালতলীর নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনার পর সোমবার (১৯ নভেম্বর) বরগুনা আওয়ামী লীগের শীর্ষ সকল নেতৃবৃন্দ ঢাকাতে মিটিং করেন। এস এম মশিউর রহমান শিহাবের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অফিসে মিটিংয়ে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে মনোনয়ন দিলে একযোগে গণ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও তালতলী উপজেলা পরিষদের বিতর্কিত চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু বাদে জেলা ও তিন উপজেলার দায়িত্বশীল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগ সহ সকল নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: পূর্বপশ্চিম।