বাঙালিয়ান ডেক্স:

শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত ডকুফিল্মটি সিনেমা হলগুলো থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক আচরণবিধি ভঙ্গের অসংখ্য প্রমান থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরব ভূমিকার কারণে নির্বাচনে ন্যুনতম লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। বরং আচরণবিধি লঙ্ঘন না করলেও পরিকল্পিতভাবে ঘটনা তৈরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হচ্ছে বিরোধী দলের ওপর।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়-এসব কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে কোনভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

অবিলম্বে শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত ডকুফিল্মটি সিনেমা হলগুলো থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। কোনোভাবেই নির্বাচনকালীন সময়ে এসব প্রচারণা চালানো যাবে না। পাশাপাশি গণভবনকেও নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন কেন এসব বিষয়ে দ্রুত আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সরকারের প্রতি নতজানু বলেই নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে কমিশন আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত প্রামান্য চিত্র ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’ ডকুমেন্টরী ফিল্মটি চারটি সিনেমা হলে শুক্রবার মুক্তি দেয়া হয়েছে। রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাষ্টার সিনেমাস, মধুমিতা ছাড়াও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছবিটি। প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে একজন প্রার্থী।

শেখ হাসিনা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেই কারণে ইতিহাসের নানা ঘটনা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার পালাবদল, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এককেন্দ্রীকভাকে উপস্থাপন করা হয়েছে-যা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।

রিজভী বলেন, আচরণবিধিতে বলা আছে-এধরণের কোন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না। এতে প্রচারণা শুরুর আগেই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে। নিজে প্রার্থী হয়ে নিজেই কিভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করেন তা বোধগম্য নয়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালার ১২ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোন প্রকার প্রচার শুরু করা যাবে না। একই সঙ্গে বিধিমালার ১০ (ঙ) ধারানুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রার্থীর ছবি বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণামূলক কোন বক্তব্য দেয়া যাবে না।

এই ডকুমেন্টরী ফিল্মটি কি প্রচারণামূলক নয়? তিনি আরো বলেন, বিধিমালার ৭-এ পোষ্টার ব্যহারের বিধি-নিষেধও আছে। সেখানে বলা আছে-সিটি কর্পোরেশন এবং পৌর এলাকার কোথাও পোষ্টার সাঁটানোর কোন সুযোগ নেই।

অথচ ডকুফিল্মটি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অর্থাৎ সিনেমা হলগুলোয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত পোষ্টারসহ রীতিমতো মহড়া আকারে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ধানমন্ডির সুধাসদনে অবস্থিত সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) পক্ষে ডকুফিল্মটি প্রযোজনা করেছেন রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি ও বিদ্যূৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ঢাকঢোল পিটিয়ে এসব করা হলেও নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

এছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশন ও রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে সিটি কর্পোরেশনের স্থাপিত টিভি স্ক্রিনে শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আচরণবিধি ন্যুনতম অনুসরণ করছেন না।

এ বিষয়ে পুরোপুরি নির্বিকার সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন। আচরণবিধিমালা ১৪ (২) ভঙ্গ করে শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়-একজন কমিশনারের মেয়ের বিয়ে, তাই ৩ জানুয়ারীতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন একমত হলে উক্ত কমিশনার বাধ সাধেন। এছাড়া জানুয়ারীর মাঝামাঝিতে বিশ্ব ইজতেমা তাই নির্বাচন পেছানো যাবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে।

তাই বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুযায়ী নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানাচ্ছি। সুতরাং নির্বাচন না পিছালে বুঝা যাবেবে, অশুভ পরিকল্পনা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন ঠিক করেছে।

রিজভী বলেন, চকবাজার থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাসেল গতকাল বেলা ৩টায় নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে তার পরিবার-পরিজন ও দলের নেতাকর্মীরা গভীরভাবে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় আছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনই তাকে আটক করেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল