বাঙালিয়ান ডেক্স

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী বাংলাদেশি ভোটাররা দুইভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এর একটি হচ্ছে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সরাসরি ভোট দেওয়া, যেটা সচারচার হয়ে আসছে। অন্যটি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া। তবে, আইনে থাকলেও দেশে নিকট অতীতে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান  সংশ্লিষ্টরা।

কারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন, তা আরপিও-এর ২৭ অনুচ্ছেদ ও ভোটার তালিকা আইনের ৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী চার ধরনের ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে পারবেন। তারা হচ্ছেন—নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার, বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ভোটার, সরকারি চাকরিজীবী যিনি চাকরিসূত্রে নিজ এলাকার বাইরে সচারচার বসবাস করেন ও কারাবন্দি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কমিশন থেকে ১২ নভেম্বর যে পরিপত্র (পরিপত্র-৩) জারি করা হয়েছে, সেখানে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া কথা বলা হয়েছে। এতে আইনের সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে কারা পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, তাদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সরকারি চাকুরিসূত্রে নিজ এলাকার বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিরা ও কারাবন্দিদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ১৫দিনের মধ্যে এবং নির্বাচনে কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে। তবে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ভোটারদের কতদিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে, সেটা পরিপত্রে উল্লেখ করা নেই। অবশ্য কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের ক্ষেত্রেও ওই ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

আবেদন প্রাপ্তির পরপরই রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে একটি পোস্টাল ব্যালট পেপার ও একটি খাম পাঠাবেন। পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর সময় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে যেসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, তা হলো—যার কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে তার নাম, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার নাম এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর ইস্যুকৃত ব্যালট পেপারের মুড়িপত্রে লিখে রাখতে হবে।

ভোটার নিজেই যথারীতি ভোট দিয়ে ওই ব্যালট পেপার খামে ভরে পাঠাবেন। এক্ষেত্রে ডাক বিভাগের উপযুক্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে সার্টিফিকেট অব পোস্টিংয়ের মাধ্যমে ডাকযোগে পাঠানোর প্রত্যয়নসহ তারিখ উল্লেখ থাকতে হবে। সার্টিফিকেট অব পোস্টিংয়ের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট পেপার গ্রহণ ও চিঠির ওপর এ সম্পর্কে রাবার স্ট্যাম্পের সিল ব্যবহার করতে হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে ভোট ব্যালট পেপারের সঙ্গে ভোট দেওয়ার  নির্দেশনা, ঘোষণাপত্র, একটি ছোট ও একটি বড় খামসহ প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ সরবরাহ করবেন। এছাড়া, ব্যালট পেপার পাঠানোর পর মুড়ির অংশ একটি প্যাকেটে সিলগালা করে রাখবেন।

কেন্দ্রে গিয়ে ভোটদানে মার্কিং সিল ব্যবহার করতে হলেও পোস্টার ব্যালট পেপারে টিক (√) চিহ্ন দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্দেশনা অনুসরণ করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত খামে রাখতে হবে। এরপর ওই ভোটারের পরিচিত অন্য কোন ভোটারের সামনে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে তা ওই ভোটারকে দিয়ে প্রত্যায়ন করে নিতে হবে। পরে ভোটদাতা যে ভোটকেন্দ্র এলাকার ভোটার, ওই নির্বাচনি এলাকার ভোটদান প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে ভোটার নিরক্ষর বা প্রতিবন্ধী হলে অন্যদের সহযোগিতা নিতে পারবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট পেপার ফল একত্রীকরণে যুক্ত করবেন। নির্ধারিত সময়ের পরে কোনও ব্যালট পেপার এলে তা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করবেন। তবে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও পোস্টাল ব্যালট পাওয়া গেলে, তা ভোট হিসেবে গণ্য হবে না বলেও এই সংক্রান্ত ১১ নম্বর ফরমে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব আতিয়ার রহমান বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘পোস্টার ব্যালটে ভোটের বিধানটি আইনে রয়েছে বলেই আমরা পরিপত্র আকারে এটা জারি করেছি।’ পরিপত্রে কিছু বিষয়ে অস্পষ্ট থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সুযোগ থাকলেও কেউ পোস্টার ব্যালটে ভোট দেন না, যে কারণে যেসব অস্পষ্টতা রয়েছে, তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন আসেনি। এছাড়া এটি নিয়ে ডাক বিভাগের সঙ্গেও বসার প্রয়োজন রয়েছে।’

বাংলা ট্রিবিউন