সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ডিসি-ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসকের সকল কর্মকর্তার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগের কর্মমূল্যায়ন ও অফিস ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাছাড়া মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন কর্মমূল্যায়নের জন্য পৃথক পৃথক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে মাঠ প্রশাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা থেকে পাওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সাথে গোয়েন্দা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে যথাসময়ে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অফিসে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তদারকি নিশ্চিত করা, জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগের প্রত্যেক কর্মকর্তাকে প্রতি তিন মাসে একটি করে বছরে ন্যূনতম চারটি জেলা ও উপজেলা পরিদর্শন করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠপ্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার কর্মকা-ে প্রশাসন যন্ত্রকে ধাক্কা দিয়েছে। সেজন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ডিসি, ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ মাঠ প্রশাসনের সার্বিক কর্মকা- শতভাগ কঠোর নজরদারির মধ্যে আনতে চায়। ওই লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্তরে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী ডিসিসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করছেন কিনা তা প্রতিদিন মনিটরিং হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ল্যান্ডফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। ডিসি বা ইউএনও ওই সময় বিশেষ জরুরি কোনো কাজে অন্য কোথাও থাকলে তাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। যদিও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ফলে পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও উৎকর্ষ বিকাশের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে হয়রানি হওয়ারও সুযোগ থাকে। তবে কোনো কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় শাসনের পরিপন্থি কোনো কাজে জড়িত কিনা সেজন্য এর প্রয়োজন রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, ডিসিদের কর্মমূল্যায়নের জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) ও গোপনীয় প্রতিবেদনসহ (এসিআর) বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। সরকার ওসবের মাধ্যমে ডিসিদের কর্মমূল্যায়ন করে থাকে। তাছাড়া সম্প্রতি দৈনন্দিন কার্যক্রম তদারকি করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মূলত সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসকদের তদারকি করা হচ্ছে। আর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইউএনওদের তদারকি করা হচ্ছে। এভাবে প্রত্যেক দপ্তরপ্রধান অধস্তনদের তদারকি করছেন।

এদিকে মাঠপ্রশাসনের কোনো কোনো কর্মকর্তার মতে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে মূল্যায়িত হন না। সেক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার (গোয়েন্দা) প্রতিবেদনে বেশি গুরুত্ব না দিয়ে প্রশাসনের গোপনীয় প্রতিবেদনের (এসিআর) প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এর আগে ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ডিসিরা গোয়েন্দা প্রতিবেদন মুক্ত পদোন্নতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কারণ গোয়েন্দা প্রতিবেদন অপপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হয়রানি করার বহু অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্মকর্তাদের ওপর দলবাজির তকমা পড়ে। সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী এসব অনিয়ম থেকে বের হয়ে এসে একটি স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আজও ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের কর্মমূল্যায়নে অন্যান্য মাপকাঠির সঙ্গে এর চর্চা আরো বেড়েছে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ) আ. গাফ্ফার খান জানান, ডিসি-ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গ্রুপে তদারকি করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নজরদারি করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের ধাপে ধাপে বিভাজন করে দেয়া হচ্ছে। এতে ভালো ফিডব্যাকও পাওয়া যাচ্ছে। অনেক পরিবর্তন এসেছে। কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও বেড়েছে। আর গোয়েন্দা প্রতিবেদন অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া হবে। কারণ কোনো কাজই ফেলে দেয়ার নয়। গণমাধ্যমে কোনো জেলার বিষয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ডিসির কাছে তার সরকারি মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এফএনএস  .কম