বাঙালিয়ান ডেক্স

পিছিয়ে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তারিখ। নির্বাচন কমিশন আগামী মাসের ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার তারিখ ঘোষণা করলেও এই সময়ে তা হচ্ছে না। আগামী বছরের জানুয়ারী মাসের ১৩ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে সরকারের উচ্চ পর্যায় এবং নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের হিসেবে নির্বাচন পেছানোর কারণগুলো হল, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন বিরোধী অবস্থান থেকে সরিয়ে আনা, শেষ সময়ে আন্দোলন-নৈরাজ্য বন্ধ করা, সংলাপের সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মিনিমাম দাবি মেনে নেয়া যেন তারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন না তুলতে পারে এবং আওয়ামী লীগের তরফ থেকে তাদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে তা শক্তভাবে বলা যায়। এছাড়া ঐক্যফ্রন্টের দাবি অনুযায়ী নির্বাচন পেছানো হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা জামিনের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট আর শক্ত কথা বলতে পারবে না।

এ জন্য নির্বাচনের তারিখ পেছানো হচ্ছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ১৩ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে যেকোন দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৫ অথবা ১৭ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঠিক করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। আওয়ামী লীগের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে নির্বাচন পেছানো ও নতুন তারিখের বিষয়ে সিগনাল দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন চায় ক্ষমতাসীনরা। এর মাধ্যমেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে আগামী দিনে সুন্দরভাবে সরকার পরিচালনা করা হবে। যদি এ নির্বাচনে সকল দল সুন্দরভাবে অংশ না নেয় তাহলে সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ মেয়াদি ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে। যা দেশের জন্য ভাল হবে না। 

সূত্র আরো জানায়, নির্বাচন পেছানোর সাথে সাথে ঐক্যফ্রন্টের অন্য দাবিগুলো না মানার বিষয়েও সরকার শক্ত অবস্থানে চলে যাবে। বলা হবে, সংবিধানের আলোকে যেসব দাবি মানার সুযোগ ছিল তা মানা হয়েছে। অন্য দাবিগুলো যেমন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন এসব দাবির বিষয়ে সরকার স্পষ্টভাবে না করবে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনাতেও সরকারের তরফ থেকে বলা হবে, নির্বাচনের অংশ নেবার বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর যেসব দাবি ছিল তার বেশিরভাগই মেনে নেয়া হয়েছে। এবং তারা নির্বাচনে স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে।

এ বিষয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতন্ত্র জোরদার এবং অব্যাহত উন্নয়নের স্বার্থে তার সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। 

তফসিল পেছানোর বিষয়ে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধঅরণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের তফসিল পেছালে আপত্তি করবে না আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচন পেছানোর সময় এবং দাবি যৌক্তিক হতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা সময় ও বাস্তবের দিকে চেয়ে যথাযথভাবে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন পেছানোর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইসির এখতিয়ার। তাই, তফসিল পেছানো হবে কিনা তা ইসি জানে।

এ বিষয়ে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ পেছানো হবে কি-না সে সিদ্ধান্ত সোমবার (আজ-১২ নভেম্বর) জানানো হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সব রাজনৈতিক দল চাইলে ভোট পেছানো হবে। এর আগে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় ভোট গ্রহণের তারিখ পেছানোর অনুরোধ জানিয়ে সিইসিকে চিঠি দেন যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। চিঠিতে ভোটগ্রহণের তারিখ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর করার প্রস্তাব করেছেন তিনি। এ ছাড়া বিকেলে নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোট এক মাস পেছানোর লিখিত দাবি জানান ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সকল দল নির্বাচন পেছানোর দাবি করলে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের উচিত ভোটগ্রহণ পেছানো। উল্লেখ্য, ইসির তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ১৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর, ভোটগ্রহণের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর।

সূত্র: ইনকিলাব।