যৌন হেনস্তায় অভিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবর পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা কয়েকদিন ধরেই। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রবিবার (১৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে পদত্যাগ করছেন না।

তিনি রবিবার নাইজেরিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন। নাইজেরিয়া থাকা অবস্থায় এমজে আকবরের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তারা অভিযোগ করেছেন, আকবর যখন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তখন তারা যৌন হয়রানির শিকার হন।

সারা ভারতে মিটু ক্যাম্পেইন শুরু হলে দুই নারী সাংবাদিক আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। তারা এক সময় পত্রিকায় তার সঙ্গে কাজ করতেন।

গত ৮ অক্টোবর এই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ করেন সাংবাদিক প্রিয়া রমনী। তিনি এক টুইট বার্তায় জানান, এমজে আকবর তাকে যৌন হয়রানি করেছেন বলে বছর খানেক আগে ভোগ ইন্ডিয়ার একটি নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন। সে সময় মার্কিন মুলুকে এই আন্দোলন শুরু হয়।

এমজে আকবরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করেছেন-প্রিয়া সিং বিন্দ্রা, ঘজালা ওয়াহাব, সুপ্তা পাল, আনজু ভারতী, সুপর্ণা শর্মা, সোমা রাহা, মালিনী ভুপ্তা, কণিকা গৌলত, কদমবারি এম ওয়েড ও মাজলি দ্য পু ক্যাম্প। বিজেপি এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করেনি। দলটির অনেকেই #মিটু আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী মানেকা গান্ধী এমজে আকবরের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রামদাস অথাওলে বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এমজে আকবরের পদত্যাগ করা উচিত।

গত বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, যৌন নিপীড়নের শিকার যেই হন না কেন মুখ খুলতে হবে, লজ্জা করলে চলবে না।

ইতোমধ্যে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি, অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনসহ বিভিন্ন দল এমজে আকবরকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন।

এক বছর ধরে মার্কিন মুলুকের সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়েইনস্টেনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগের ঝড় বয়ে যাচ্ছে যা #মিটু নামে পরিচিত। একের পর এক অভিনেত্রী ও পরিচিত নারী প্রতিষ্ঠিত ও ক্ষমতাবান এই প্রযোজকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন, যেগুলো আদালতের বিচারাধীন। তারই রেশ ধরে ভারতেও শুরু হয়েছে এই আন্দোলন।

হিন্দি সিনেমার সাবেক বাঙালি অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত ১০ বছর আগে তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন অভিনেতা নানা পাটেকার ও নৃত্য পরিচালক গণেশ আচার্যের বিরুদ্ধে। সেই থেকে একে একে শুরু হয়েছে অভিযোগের পালা। অভিযোগের তালিকা দিন দিন বাড়ছে।