প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৮,

ইয়াবা গডফাদারদের হালনাগাদ তালিকার শীর্ষে ফের ওঠে এসেছেন কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ ও উখিয়া) আসনের আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সাংসদ আবদুর রহমান বদি। কক্সবাজারের ৭৩ জন প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ীর এ তালিকায় কেবল  একা বদিই নয়, সঙ্গে আছেন পাঁচ ভাই আবদুল শুক্কুর, আবদুল আমিন, মৌলভি মুজিবুর রহমান, মো. সফিক ও  মো. ফয়সাল।

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এ তালিকায় পাঁচ ভাই ছাড়াও উঠে এসেছে বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের নামও। এতে আছেন বদির ভাগনে সাহেদুর রহমান নিপু (ওসি আবদুর রহমানের ছেলে), বেয়াই শাহেদ কামাল, ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেলসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ একাধিক বাহিনীর তালিকায় সংসদ সদস্য বদিসহ তাঁর পরিবারের অন্তত ২৬ জনের নাম আছে।কিন্তু বরাবরই তিনি তা অস্বীকার করে আসছেন। বদির দাবি,  ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করতে তিনিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তিনি বরাবরের মতো বলেন, তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা এবং ইয়াবার শীর্ষ গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সেপ্টেম্বর মাসে ৭৩ জনের নতুন তালিকাটি তৈরি করে। এই তালিকায় আবারও শীর্ষ ইয়াবা  ব্যবসায়ীি ও গডফাদার হিসেবে উঠে এসেছে বদির নাম।

দেশজুড়ে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে  শুরু হয়েছে মাদকবিরোধেী অভিযান। গত পাঁচ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২৬০ মাদককারবারি নিহত হয়েছে। অভিযানে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ৬৫ হাজারের বেশি মাদককারবারি।  দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে মাদককারবারিরা আতঙ্কে থাকলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না তাদের এই অবৈধ ব্যবসা। নিজেরা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়ে নতুন নতুন কৌশলে অব্যাহত রেখেছে ইয়াবা ব্যবসা।

মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালানগুলো টেকনাফ হয়ে দেশে প্রবেশ করে।মরণনেশা ইয়াবার আগ্রাসনে  রোধে কয়েক মাস আগে টেকনাফে র‌্যাবের পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবি-কোস্টগার্ড প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করলেও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সূত্র ঃ পূর্ব পশ্চিম