প্রতি বছরে দুই শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমানোর আশায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর মাধ্যমে ১০ বছরেই দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর হবে বলে লক্ষ্য স্থির করছেন তিনি।

রবিবার রাজধানীতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফ আয়োজিত দিনব্যাপী ‘কিশোর-কিশোরী সম্মেলন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বার্ষিক দারিদ্র্য দূরীকরণ হার এখনো দুই শতাংশের যথেষ্ট নীচে রয়েছে। এটাকে দুই শতাংশে যদি আমরা নিতে পারি তাহলে হয়ত আগামী ১০ বছরে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূরীভূত করতে পারব।’

বর্তমানে দেশে দারিদ্রের হার ২১.৮ শতাংশের কিছু বেশি। আর চরম দারিদ্র্য কমে এসেছে ১১.৩ শতাংশে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে দারিদ্র্যসীমা অন্তত ১০ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা। এ জন্য আমরা যে কার্যক্রম গ্রহণ করছি সে অনুযায়ী যদি ৭-৮ বছর চালিয়ে যেতে পারি তাহলে সেই লক্ষ্যে আমরা পৌঁছে যেতে পারি।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরের পরিস্থিতি বর্ণনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তখন দেশের অন্তত ৭০ ভাগ মানুষ দরিদ্র, সম্ভবত এটা ৮০-৯০ ভাগও হতে পারে। এদের উন্নয়নই হল আমাদের দেশের উন্নয়নের মূলমন্ত্র।’

‘আমরা দারিদ্র্যকে অনেকভাবে হারিয়েছি। কিন্তু এখনো প্রায় তিন কোটি মানুষ দরিদ্র। তার মধ্যে আবার এক কোটি অত্যন্ত হতদরিদ্র।’

তবে দারিদ্র্য দূর হলেও কিছু কিছু মানুষ সব সময়ই দরিদ্র্য থাকবে বলেও জানান মুহিত। বলেন, ‘প্রতিবন্ধী যারা আছে, বিধবা বা অসহায় বৃদ্ধ যারা আছেন, তারা কোথায় যাবেন? তাদের রাষ্ট্রের দেখাশোনা করতে হবে এবং রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় যেকোনো দেশের ১০ থেকে ১৪ শতাংশ মানুষ অবস্থান করে।’

‘আমেরিকার মতো অত্যন্ত ধনী দেশেও ১৪ শতাংশ মানুষ গরিব। তবে মালয়েশিয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে কম, মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে আছে।’

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ জানান, উন্নয়নকে টেকসই করতে শিশু-কিশোরদের নিয়ে সংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১১ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক লাখ শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে ৭১০ জনকে বাছাই করা হয়। বাছাই করা কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

পিকেএসএফ সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের বক্তব্য রাখেন।